আজঃ বৃহস্পতিবার ০৯ ডিসেম্বর ২০২১

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে উন্নত জীবন ও শিক্ষার হাতছানি

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের হাত ধরে ২০০১ সালে যাত্রা শুরু করেছিল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। দেশ ও দেশের বাইরে শিক্ষিত নেতৃত্ব তৈরিতে সক্ষম, এমন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। ১১ হাজার বর্তমান শিক্ষার্থী ও ১১ হাজারের বেশি সাবেক শিক্ষার্থীকে নিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এখন এক বিশাল পরিবার, যাঁরা সারা বিশ্বে দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করছে।

২০১৯ সালে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করেন। সে বছর ২৩ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম সমাবর্তনে প্রধান বক্তা হিসেবে শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি।

বড় ধরনের সামাজিক পরিবর্তন ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মাথায় রেখে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তি বিকাশে কাজ করছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। সেই লক্ষ্যে এখানে যুক্তরাষ্ট্রের লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স প্রকল্পের শিক্ষাপদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সেমিস্টার পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। একসঙ্গে ক্যাম্পাসে থাকা ও লেখাপড়ার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীলতা ও সেবামূলক নেতৃত্বগুণ চর্চার সুযোগ পান তাঁরা।

২০২২ সালের শেষে নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব এক নতুন ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হওয়ার পরিকল্পনা করছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। সাভারে অবস্থিত ৩০ একরের আবাসিক ক্যাম্পাস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য স্থাপনাকে পূর্ণতা দেবে এই নতুন প্রাঙ্গণ।

গবেষণা ও শিক্ষার নানা ক্ষেত্র

রোবটিকসসহ নানা ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বেশ কয়েকটি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের সুনাম আছে। রোহিঙ্গা সংকট, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ উন্নয়ন, উদ্ভাবনী স্থাপত্য এবং পোশাকশিল্পের ব্যবসায়িক উন্নয়নের মতো বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল হেলথ স্বীকৃতি পেয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধীন জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ। এ ছাড়া বিশ্বসেরা ১০০ ‘থিঙ্ক ট্যাংক’–এর তালিকায় স্থান পেয়েছে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও নানা কার্যক্রমের সুবাদে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিসের বিশেষ সুনাম আছে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের টিকাদান বণ্টন কৌশল নিয়ে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটির সঙ্গে এক হয়ে কাজ করছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।

ক্লাব ও সোসাইটির মাধ্যমে দক্ষতার চর্চা

শিক্ষার্থীদের ডিউক অব এডিনবার্গ পুরস্কারে অংশগ্রহণ ও স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। এ ছাড়া ক্যাম্পাসের নানা ক্লাব ও সোসাইটিতে অংশ নিয়ে সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের চর্চা করার সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বিতর্ক, মডেল ইউএন, সাংস্কৃতিক চর্চা, খেলাধুলা, বেড়ানো, চলচ্চিত্র, পরিবেশ, উদ্যোক্তাসহ নানা বিষয়ভিত্তিক ক্লাব ও সোসাইটি শিক্ষার্থীদের সমৃদ্ধ করছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জনের মাধ্যমে এরই মধ্যে নজর কেড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিকস ক্লাব।