আজঃ বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর ২০২১

অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি সইয়ে ঐকমত্য

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য জোরদার এবং দুই দেশের মধ্যে পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের সুযোগ সৃষ্টি করতে ‘অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তি’ (প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট, সংক্ষেপে পিটিএ) সইয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। দুই দেশের লক্ষ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট, সংক্ষেপে এফটিএ) সই করা। এর আগেই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে দুই দেশ পিটিএ সই করবে। গতকাল শনিবার সকালে ঢাকায় বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার শীর্ষ বৈঠকের পর বিকেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের এ কথা বলেছেন।

এদিকে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষের নেতৃত্বে দুই দেশের শীর্ষ বৈঠক শেষে ছয়টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এগুলো হলো বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে যুব উন্নয়ন জোরদারে সহযোগিতা, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদ (বিএআরসি) ও শ্রীলঙ্কার কাউন্সিল ফর অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ পলিসির (এসএলসিএআরপি) মধ্যে সমঝোতা, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং শ্রীলঙ্কার টার্সিয়ারি অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন কমিশনের (টিভিইসি) মধ্যে কারিগরি দক্ষতা বিনিময়, শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণে সহায়তা, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ও লক্ষ্মণ কাদির গামার ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মধ্যে সহযোগিতা এবং ২০২১-২৫ মেয়াদে সাংস্কৃতিক কর্মসূচি বিনিময়। এমওইউগুলোর একটি নতুন, অন্য পাঁচটি নবায়ন।

বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়।
বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সম্ভাবনার চেয়ে অনেক কম দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হয়। তিনি বলেন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে ‘যৌথ ফিজিবিলিটি স্টাডি’ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের এখন দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে যাওয়া উচিত।

বেসরকারি সেক্টরের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শ্রীলঙ্কার বাজারে বাংলাদেশের অনেক পণ্যের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করেছে। আমরা শ্রীলঙ্কান বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্প পার্ক ও হাইটেক পার্কগুলোতে আরো বেশি বিনিয়োগ করার আহ্বান জানাই।’

শেখ হাসিনা ধান চাষ, মিঠা পানির মাছ চাষসহ কৃষিক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উপকূল, অ্যাকোয়াকালচার, গভীর সমুদ্রে মৎস্যসম্পদ আহরণ বিষয়ে শ্রীলঙ্কা থেকে প্রযুক্তি জ্ঞান অর্জনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

সক্ষমতা অর্জন, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে আরো বেশি প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমানের ওষুধ আমদানি করে শ্রীলঙ্কা লাভবান হতে পারে।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি আগামী বছর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শ্রীলঙ্কা সফরের আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশের ডিজিটাল দেশে রূপান্তরেরও প্রশংসা করেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গত শুক্রবার ঢাকায় আসেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী। সেদিন বিকেলে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দেন। রাতে তিনি প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত নৈশ ভোজে অংশ নেন।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী গতকাল ঢাকায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।