আজঃ বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর ২০২১

সময়মতো উৎপাদনে না আসায় কয়লাভিত্তিক ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিল

সময়মতো উৎপাদনে আসতে না পারায় কয়লাভিত্তিক ১০টি বিদ্যুৎ প্রকল্প সরকার বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

আজ রবিবার (২৭ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। 

বাতিল হওয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো হলো- পটুয়াখালী ২×৬৬০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, উত্তরবঙ্গ এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট সুপার থারমাল পাওয়ার প্লান্ট, মাওয়া ৫২২ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঢাকা ২৮২ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, চট্টগ্রাম ২৮২ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প।

এ ছাড়া খুলনা ৫৬৫ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মহেশখালী এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মহেশখালী এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ৭০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিপিজিসিবিএল-সুমিতোমো এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প।

এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিল হওয়ায় কোনো প্রভাব পড়বে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এগুলো অনেক দিন ধরেই বিলম্বিত হচ্ছিল, তাই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।  আমরা সেভাবেই পরিকল্পনা নিয়েছি। এতে কোনো সংকট তৈরি হবে না। আঞ্চলিক গ্রিড ব্যালান্সের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে চুড়ান্ত ধাপে রয়েছি। এখন আর কোনো সংকট নেই। তিনি বলেন, অনেকে সৌর বিদ্যুতের কথা বলেন, 'এখনো এই বিদ্যুতের দাম বেশি। আমরা চাই সবার জন্য সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে। যত দ্রুত বিদ্যুৎ দিতে পারব, ততদ্রুত দেশের উন্নয়ন হবে।'

এর আগে দেশের ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেন প্রধানমন্ত্রী। কয়েক বছর ধরে এসব প্রকল্পের নির্মাণকাজের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এগুলো বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছিল। এর পরিবর্তে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ব্যবহার বাড়ানো হবে বলে জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে।

সূত্র জানায়, কয়লাভিত্তিক পায়রার এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। বাংলাদেশ-চীনের যৌথ প্রকল্প এটি। এ ছাড়া রামপালের এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র, চট্টগ্রামের এক হাজার ২২৪ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র, বরগুনার ৩০৭ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ীর এক হাজার ২০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কক্সবাজারের এক হাজার ২০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাঠ পর্যায়ের কাজ এগিয়ে চলছে।

পায়রার আগে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ার ৫২৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৩ সাল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে।

গতকাল শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘বর্তমানে আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে কয়লা থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। এখন আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের পরিকল্পনা করছি। তবে এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কিভাবে চালু করা হবে, সেই পরিকল্পনা এখনো করেনি সরকার।’ তিনি আরো বলেন, ‘কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে। পরিবেশের ওপর একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রভাব একটি ইটভাটার প্রভাবের চেয়েও কম।’